ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে কত টাকা লাগে নতুনদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড ।
ফ্রীলাঞ্চিং শুরু করতে কত টাকা লাগে,এই প্রশ্নটি প্রায় প্রত্যেক নতুন
ফ্রীলাঞ্চারের মনে আশে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী,বেকার তরুন কিংবা সীমিত বাজেট এ ঘরে
বসে অনলাইনে আয় করতে চান,তাদের কাছে বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
অনেকেই মনে করেন ফ্রেলাঞ্চিং শুরু করতে দামি কম্পিউটার,ভালো ইন্টারনেট
এবং প্রচুর টাকার প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। আমাদের কাছে যদি
সাধারণ কম্পিউটার বা উপযুক্ত স্মার্টফোন,ইন্টারনেট সংযোগ এবং শেখার আগ্রহ থাকলে
কম খরচেও ফ্রেলাঞ্চিং শেখা যায়।
পোস্ট সূচিপত্রঃ ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে কত টাকা লাগে নতুনদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড
- ফ্রেলাঞ্চিং শুরু করতে কত টাকা লাগে?
- ফ্রীলাঞ্চিং শুরু করতে কি কি প্রয়োজন?
- একটি নির্দিষ্ট ফ্রীলাঞ্চিং স্কিল
- শেখার জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার
- ফ্রীলাঞ্চিং শিখতে কত টাকা খরচ হয়?
ফ্রেলাঞ্চিং শুরু করতে কত টাকা লাগে?
ফ্রেলাঞ্চিং শুরুর নির্দিষ্ট কোন বাজেট নেই। মোট খরচ নির্ভর করে কোন
কাজ শিখা,কি ধরনের ডিভাইস ব্যাবহার করা এবং কোথা থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার
উপর। বাংলাদেশ এর প্রেক্ষাপট এ নতুনদের জন্য একটি আনুমানিক বাজেট নিচে
দেওয়া হচ্ছে।
প্রয়োজনীয় বিষয়
আনুমানিক খরচ স্মার্টফোন(আগে থেকে থাকলে)
০ টাকা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ(আগে থেকে থাকলে)
০ টাকা ইন্টারনেট
মাসে ৫০০-১০০০ টাকা
ফ্রী অনলাইন কোর্স
০ টাকা পাদে কোর্স
২০০০-১০০০০+ টাকা
প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার
০-১৫০০ টাকা বা বেশি
বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খরচ
ব্যাবহার
অনুযায়ী
ফ্রীলাঞ্চিং শুরু করতে কি কি প্রয়োজন?
১। একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ
ফ্রেলাঞ্চিং এর জন্য কম্পিউটার বা ল্যাপটপ অতিব গুরুত্বপূর্ণ। জেমনঃ
গ্রাফিক ডিজাইন ,
ওয়েব ডিজাইন,
ওয়েব দেভলেপমেন্ত,
ভিডিও এডিটিং,
ডিজিটাল মার্কেটিং,
কন্টেন্ট রাইটিং,
তবে শুরুতেই দামি ল্যাপটপ না কিনে কাজের ধরন অনুযায়ী সাধারণ মানের
ল্যাপটপ দিয়ে ও কাজ শেখা যায়।
২। ভালো ইন্টারনেট সংজগ
অনলাইনে কাজ করা,তুতরিয়াল দেখা,ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ এবং কাজ জমা
দেওয়ার জন্য ইন্টারনেট প্রয়োজন।
একটি নির্দিষ্ট ফ্রীলাঞ্চিং স্কিল
ফ্রীলাঞ্চিং এ সফল হওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল
দক্ষতা।শুরুতে একসঙ্গে অনেকগুলো স্কিল শেখার চেষ্টা না করে একটি নির্দিষ্ট
বিষয় এ মনোযোগ দেওয়া উচিত। নতুনদের জন্য কয়েকটি জনপ্রিয় স্কিল হলঃ
স্কিল
কি ধরনের কাজ করতে পারবেন গ্রাফিক ডিজাইন
লোগো,ব্যানার,সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট
এসইও
ওয়েবসাইট অপ্তিমাইযাতিওন ভিডিও এডিটিং
ইউটিউব ও সোশ্যাল
মিডিয়া ভিডিও কন্টেন্ট রাইটিং
ব্লগ ও ওয়েবসাইট এর লেখা ওয়েব দেভলেপমেন্ত
ওয়েবসাইট তৈরি ও
পরিচালনা
শেখার জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার
আমরা কোন কাজ শিখবো তার ওপর সফটওয়্যারের প্রয়োজন নির্ভর করবে।
উদাহরনঃ
গ্রাফিক ডিজাইনঃকানভা,জিআইএমপি
ভিডিও এডিটিংঃদাভিঞ্ছি রেসল্ভে
ওয়েব দেভলপমেন্ত:ভিসুয়াল স্টুডিও কোড
এসইও:গুগল সেয়ারস কন্সল
কন্টেন্ট রাইতিংঃগুগল দক্স
শুরুতে বিনামুল্লের টুল ব্যাবহার করা যায়। কাজের প্রয়োজন হলে পরবর্তী
সময় এ পাদে সফটওয়্যার ব্যাবহার করতে হবে।
ফ্রীলাঞ্চিং শিখতে কত টাকা খরচ হয়?
ফ্রীলাঞ্চিং শেখার জন্য সব সময় টাকা খরচ করতে হয় না। বর্তমানে ইন্টারনেট এ
অনেক ভালো ভালো মানের বিনামুল্লের শিক্ষা মূলক রিসোর্স রয়েছে।
বিনামুল্লে ফ্রীলাঞ্চিং শেখার উপায়
১।ইউটিউব ইউটিউব এ গ্রাফিক ডিজাইন,এসইও,ডিজিটাল মার্কেটিং,ভিডিও
এডিটিংসহ বিভিন্ন বিষয় এ বিনামুল্লে ভিডিও পাওয়া যায়।
২।গুগল স্কিলশপ যারা ওয়েব দেভলেপমেন্ত বা প্রোগ্রামিং শিখতে চান,তাদের জন্য
উপকারী।
পেয়াদ কোর্স করলে কত টাকা লাগতে পারে?
কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অভিজ্ঞ কারো কাছ থেকে আমাদের পেয়াদ কোর্স
করতে হবে।বাংলাদেশ এর কোর্সের বিষয়,মেয়াদ,প্রশিক্ষক এবং সাপোর্ট অনুযায়ী
খরচ আলাদা হয়।তবে কোর্স করার আগে যাচাই করে নেওয়া ভালোঃ
প্রশিক্ষকের বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা আছে কি না।
কোর্সে প্রাক্তিকাল প্রোজেক্ট রয়েছে কি না।
শিক্ষার্থীদের কাজের ফিডব্যাক দেওয়া হয় কি না।
কোর্স শেষে পোর্টফলিও তৈরি করতে সাহায্য করা হয় কি না।
অতিরঞ্জিত আয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে কি না।
মোবাইল দিয়ে কি ফ্রীলাঞ্চিং শুরু করা যায়?
মোবাইল দিয়ে কিছু কাজ শেখা ও করা সম্ভব,তবে শব ধরনের ফ্রীলাঞ্চিং কাজ
মোবাইল দিয়ে করা যায় না। মোবাইল দিয়ে যেসব কাজ শুরু করা যায়ঃ
কানভা দিয়ে সাধারণ গ্রাফিক ডিজাইন
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট তৈরি
কন্টেন্ট লেখা সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট
সাধারণ ভিডিও এডিটিং
তবে ওয়েব দেভলেপমেন্ত, পেশাদার ভিডিও এডিটিং এবং জটিল গ্রাফিক
ডিজাইনের জন্য কম্পিউটার বেশি উপযোগী।
নতুনদের জন্য ফ্রীলাঞ্চিং শুরু করার তিনটি বাজেট পরিকল্পনা
যার কাছে যত টাকা আছে তার উপর ভিত্তি করে এই পরিকল্পনা অনুসরন করতে হবে।
পরিকল্পনা ১ঃ০-১০০০ টাকা
আগে থেকে থাকা মোবাইল বা কম্পিউটার বেবহার।
ইউটিউব থেকে বিনামুল্লে শেখা।
ফ্রী সফটওয়্যার ব্যাবহার
পরিকল্পনা ২ঃ২০০০-১০০০০ টাকা।
প্রয়োজন অনুযায়ী ভালো ইন্টারনেট।
নির্বাচিত বিষয়ে পাইদে প্রশিক্ষণ।
পোর্টফলিও তৈরির প্রস্তুতি।
পরিকল্পনা ৩ঃ২০০০০ টাকা বা তার বেশি
কাজের উপযোগী কম্পিউটার বা ল্যাপটপ।
প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন।
ইন্টারনেট ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম।
ফ্রীলাঞ্চিং শুরু করার আগে যেসব ভুল এড়িয়ে চলতে হবে
১।একসঙ্গে অনেক স্কিল শেখা
একসঙ্গে গ্রাফিক ডিজাইন,এসইও,ভিডিও এডিটিং ও ওয়েব দেভলপমেন্ত শেখার চেষ্টা করা
যাবে না। প্রথমে একটি স্কিল বেছে নেওা।
২।শুরুতেই দামি ল্যাপটপ কেনা
নিজের কাজের জন্য কেমন কম্পিউটার দরকার, সেটি না বুঝে বেশি টাকা খরচ করা যাবে না।
৩।কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় এমন কোর্স কেনা
কেউ যদি নির্দিষ্ট টাকা আয়ের নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে সতর্ক থাকুন। ফ্রীলাঞ্চিং এ আয়
নির্ভর করে দক্ষতা,অভিজ্ঞতা ও কাজ পাওয়ার ওপর।
৪।শুধু ভিডিও দেখে শেখা
ভিডিও দেখে ধারনা পাওয়া যায়,কিন্তু বাস্তব দক্ষতা তৈরি করতে নিজে কাজ করতে হবে।
৫।ভুয়া চাকরি বা ক্লায়েন্টের ফাঁদে পড়া
কাজ দেওয়ার আগে টাকা চায় এমন সন্দেহজনক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপার
এ সতর্ক থাকুন।
উপসংহার
ফ্রীলাঞ্চিং শুরু করতে কত টাকা লাগে, তার উত্তর হোল আপনার কাছে প্রয়োজনীয় ডিভাইস
থাকলে খুব অল্প টাকা দিয়েও শেখা শুরু করা সম্ভব। শুরুতেই বর বিনিয়োগ করার প্রয়োজন
নেই।
প্রথম এ একটি নির্দিষ্ট স্কিল বেছে নিন,বিনামুল্লে শেখার রিসোর্স ব্যাবহার করুন
এবং নিয়মিত প্রাকটিস করে নিজের পোর্টফলিও তৈরি করুন।
আড্ডা বাড়ির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url